হাইপনোসিস

From Reincarnatiopedia

Template:নির্ঘণ্ট হাইপনোসিস (ইংরেজি: Hypnosis) মন আর শরীরর এক্তা বিশেষ অবস্থা যেইখানে মনর গভীর একাগ্রতা আর সূক্ষ্ম সচেতনতা বাড়ে। ইহারে সম্মোহন বা সম্মোহন চিকিৎসাও বুলা যায়। ইহানর মাধ্যমে, এক্তা প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ (হাইপনোথেরাপিস্ট) বা স্ব-উপদেশর (self-hypnosis) মাধ্যমে, মনর অচেতন অংশর সা্ঙ্গে যোগাযোগ করানর চেষ্টা কইরা থাকে, যেইতায় চিন্তা, অনুভূতি, স্মৃতি, বা আচরণর পরিবর্তন আনন যায়। বাংলাদেশ আর ভারতর সিলেটি ভাষী অঞ্চলত ইহার ব্যবহার চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য, আর ব্যক্তিগত উন্নয়নর বাবে বাড়ি বাড়তেছে।

সংজ্ঞা

হাইপনোসিস এক্তা মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি যেইখানে এক্তা ব্যক্তি উচ্চমানর একাগ্রতা, ফোকাস, আর আত্মসমর্পণর অবস্থায় প্রবেশ করে। ইহানরে প্রায়ই "ট্রান্স" অবস্থা বুলা হয়, কিন্তু ইহা ঘুম বা অচেতন অবস্থা নয়। বরং, ইহানতে ব্যক্তির সচেতন মনর সীমা সাময়িকভাবে কমে যায় আর অচেতন মনর সা্ঙ্গে সরাসরি কাজ করানর সুযোগ পায়। হাইপনোথেরাপিস্টর ইনডাকশন পদ্ধতি (শান্ত কণ্ঠ, মনোযোগ কেন্দ্রীকরণর কৌশল) ব্যবহার করে রোগীরে ইহানর অবস্থায় নিয়া যায়। ইহানর লক্ষ্য হইলো রোগীর অভ্যন্তরীণ সম্পদ আর দক্ষতা জাগান, যেইতায় বাজে অভ্যাস ত্যাগ, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, বা মানসিক আঘাতর চিকিৎসা করা যায়। ইহারে রিগ্রেশন হাইপনোসিসর সা্ঙ্গে গুল্টায়া ফেলা যায় না, যেইখানে অতীতর স্মৃতি, বিশেষ করে পূর্বজন্মর ধারণা, খোঁজার চেষ্টা করা হয়।

ইতিহাস

বৈশ্বিক ইতিহাস

হাইপনোসিসর আধুনিক ইতিহাসর শুরু হয় ১৮শ শতাব্দীতে অস্ট্রিয়ার চিকিৎসক ফ্রান্ৎস আন্তন মেসমারর "অ্যানিমেল ম্যাগনেটিজম" বা "মেসমেরিজম"র তত্ত্বর সা্ঙ্গে। যদিও পরে প্রমাণিত হয় যে ইহার পিছনে চৌম্বকীয় শক্তি নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব কাজ করে। ১৯শ শতাব্দীতে ব্রিটিশ চিকিৎসক জেমস ব্রেড ইহার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দেন আর "হাইপনোসিস" শব্দটা প্রবর্তন করেন, গ্রিক শব্দ "হিপ্নোস" (ঘুম) থেকে। পরে, ফরাসি নিউরোলজিস্ট জাঁ-মার্টিন শার্কো আর অস্ট্রিয়ার মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েড ইহারে হিস্টেরিয়া আর মনোবিশ্লেষণর চিকিৎসায় ব্যবহার করেন। বিংশ শতাব্দীতে, আমেরিকান মনোচিকিৎসক মিল্টন এরিকসনর কাজ হাইপনোথেরাপির আধুনিক চর্চার ভিত্তি স্থাপন করে।

বাংলাদেশ আর ভারতর সিলেট অঞ্চলর ইতিহাস

সিলেটি সংস্কৃতিত, সম্মোহনর ধারণা পুরান কাল থেইকাই বিভিন্ন রূপে বিদ্যমান আছে। লোকগাথা, ফকিরি, আর আধ্যাত্মিক চর্চাত "ট্রান্স" বা ভক্তির অবস্থা দেখা যায়, যেইটা হাইপনোসিসর সা্ঙ্গে তুলনীয়। আধুনিক হাইপনোসিসর চিকিৎসাকারী ব্যবহার বাংলাদেশ আর ভারতর সিলেটি অঞ্চলত ১৯৮০-১৯৯০র দশক থেইকাই লক্ষ্য করা যায়, যখন বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিছু চিকিৎসক আর মনোবিজ্ঞানী ইহার চর্চা শুরু করেন। ঢাকা, সিলেট, শিলং, গুয়াহাটি, আর কোলকাতার কিছু ক্লিনিক আর মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রত ইহার প্রয়োগ শুরু হয়। স্থানীয়ভাবে, ইহারে প্রথমে সন্দেহর চোখে দেখা হলেও, সফল চিকিৎসার উদাহরণর মাধ্যমে ইহার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।

প্রকারভেদ

হাইপনোসিসর প্রধান কয়েক্তা প্রকার নিচে উল্লেখ করা হইছে:

  • ক্লিনিক্যাল হাইপনোথেরাপি: ইহা এক্তা চিকিৎসক বা মনোবিজ্ঞানী দ্বারা পরিচালিত হয়, বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা (যেমন: উদ্বেগ, ফোবিয়া, বিষণ্নতা), ব্যথা ব্যবস্থাপনা, ধূমপান ত্যাগ, ওজন নিয়ন্ত্রণ, আর পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD)র বাবে।
  • এরিকসনীয় হাইপনোসিস: মিল্টন এরিকসনর উন্নত পদ্ধতি, যেইখানে অপ্রত্যক্ষ ইঙ্গিত, রূপক, আর কাহিনী ব্যবহার করে রোগীর অচেতন মনর সা্ঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
  • স্ব-সম্মোহন (Self-Hypnosis): ব্যক্তি নিজেই নিজেরে হাইপনোটিক অবস্থায় নিয়া যায়, প্রায়ই অডিও রেকর্ডিং বা শেখা কৌশলর মাধ্যমে, যেইতায় চাপ নিয়ন্ত্রণ, আত্মবিশ্বাস বাড়ান, বা কর্মক্ষমতা উন্নয়ন করা যায়।
  • রিগ্রেশন হাইপনোথেরাপি: ইহানর লক্ষ্য অতীতর স্মৃতি, বিশেষ করে শৈশবের ট্রমা, খোঁজা আর নিরাময় করা। ইহারে রিগ্রেশন হাইপনোসিসর সা্ঙ্গে মিলায়, যেইখানে পূর্বজন্মর দিকে মনোনিবেশ করা হয় – ইহাত্তো বিতর্কিত আর বৈজ্ঞানিকভাবে অপ্রমাণিত।
  • স্টেজ হাইপনোসিস: বিনোদনর বাবে ব্যবহৃত হয়, যেইখানে স্বেচ্ছাসেবকদের দিয়ে মজার বা অদ্ভুত কাজ করান হয়। ইহা চিকিৎসা পদ্ধতি নয় আর সমালোচনার মুখে পড়ে, কারণ ইহাতে অংশগ্রহণকারীর সম্মানহানি হবার সম্ভাবনা থাকে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা

বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় হাইপনোসিসরে এক্তা বৈধ মনস্তাত্ত্বিক আর শারীরবৃত্তীয় অবস্থা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (fMRI) আর ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাফি (EEG)র গবেষণায় দেখা গেছে যে হাইপনোটিক ট্রান্সত মস্তিষ্কর কার্যকলাপে পরিবর্তন হয়, বিশেষ করে অ্যান্টেরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্স আর ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্কত। ইহা প্রমাণ করে যে ইহা শুধু কল্পনা নয়, বরং এক্তা বাস্তব স্নায়বিক অবস্থা।

গবেষণায় দেখা গেছে যে হাইপনোসিস ব্যথা নিয়ন্ত্রণ (এনালজেসিয়া)তে খুব কার্যকর, বিশেষ করে দাঁতর চিকিৎসা, প্রসব ব্যথা, আর ক্রনিক ব্যথার বাবে। ইহা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS)র লক্ষণ কমাতে, আর দুশ্চিন্তা আর ফোবিয়ার চিকিৎসাতেও সাহায্য করে। তবে, ইহা সব রোগীর বাবে সমানভাবে কাজ করে না; ব্যক্তির "হাইপনোটাইজেবিলিটি" বা সম্মোহন গ্রহণ করার ক্ষমতার উপর ইহার সাফল্য নির্ভর করে।

বাংলাদেশ আর ভারতত, ঢাকার বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (BUET)র মনোবিজ্ঞান বিভাগ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র কিছু গবেষক, আর ভারতত গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় আর নর্থ ইস্টার্ন হিল ইউনিভার্সিটি (NEHU)তে মানসিক স্বাস্থ্য আর বিকল্প চিকিৎসা নিয়ে গবেষণার সা্ঙ্গে হাইপনোসিসর বিষয়টাও আলোচনায় আসছে।

প্রয়োগ

বাংলাদেশ আর ভারতর সিলেটি সমাজত হাইপনোসিসর প্রয়োগ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যায়:

  • মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা: উদ্বেগ, আতঙ্ক, ট্রমা, নিদ্রাহীনতা, আর মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনায়।
  • শারীরিক চিকিৎসা: দাঁতের চিকিৎসার ভীতি দূর করা, ক্যান্সার রোগীর বমি বমি ভাব কমানো, আর ফ্যান্টম লিম্ব পেইনর চিকিৎসায়।
  • বাজে অভ্যাস ত্যাগ: ধূমপান, গুতখোর, বা নখ কামড়ানর অভ্যাস ত্যাগ করানর বাবে।
  • ক্রীড়া মনোবিজ্ঞান: ক্রিকেট, ফুটবল খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আর ফোকাস বাড়ানর বাবে।
  • শিক্ষা আর স্মৃতি শক্তি: পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ান আর পরীক্ষার ভীতি কাটানর বাবে।
  • আইন-শৃঙ্খলা: কিছু ক্ষেত্রে, অপরাধ তদন্তর সময় স্মৃতি পুনরুদ্ধারর বাবে ("ফরেনসিক হাইপনোসিস") ব্যবহার করা হয়, কিন্তু ইহা বিতর্কিত আর কোথাও কোথাও আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশ আর ভারতত আইনী অবস্থা

বাংলাদেশত, হাইপনোসিসরে কোনো বিশেষ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করা হয় নাই। ইহার চর্চা সাধারণত বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)র নিবন্ধিত চিকিৎসক বা বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটি (BCPS)র সদস্য মনোবিজ্ঞানীরা করলে তা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য। ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়র মতো সরকারি হাসপাতালের মানসিক健康 বিভাগত কখনো কখনো ইহার ব্যবহার দেখা যায়। তবে, যেই কেউ ইহার চর্চা করলে বা দাবি করলে ইহা প্রতারণার শামিল হতে পারে আর প্রতারণা আইন, ১৮৬০র অধীনে মামলা হতে পারে।

ভারতত, অবস্থা কিছুটা সুসংহত। ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (IMA) আর ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (NMC) নিবন্ধিত চিকিৎসকরাই হাইপনোথেরাপি চর্চা করতে পারেন। রাজীব গান্ধী ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেসর মতো প্রতিষ্ঠান কিছু প্রশিক্ষণ প্রদান করে। মনোচিকিৎসা আইন, ২০১৭ (Mental Healthcare Act, 2017) বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির স্বীকৃতি দেয়, কিন্তু ইহাতে হাইপনোসিসর সরাসরি উল্লেখ নাই। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা রাজ্যত, যেইখানে সিলেটি ভাষীরা বাস করে, সেখানে নিবন্ধিত চিকিৎসকর হাতে ইহার চর্চা নিরাপদ।

সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি

সিলেটি মুসলমান, হিন্দু, আর অন্যান্য সম্প্রদায়র মধ্যে হাইপনোসিসর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি মিশ্রিত। অনেকের কাছে, ইহা ইসলাম বা হিন্দুধর্মর আধ্যাত্মিক "তাবিজ-তুকা" বা "জাদু-টোনা"র সা্ঙ্গে গুল্টায়া ফেলা হয়, আর সন্দেহর চোখে দেখা হয়। কিছু ধর্মীয় নেতা ইহারে অনুমোদন দেন না, যদি ইহাতে "শিরক" (আল্লাহর সা্ঙ্গে শরিক করা) বা অলৌকিকতার দাবি করা হয়। আবার, অনেক শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম ইহারে এক্তা বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে দেখে আর গ্রহণ করে। স্থানীয় সংবাদপত্র, টেলিভিশন টক শো, আর সামাজিক মাধ্যম (যেমন: ফেসবুক গ্রুপ "সিলেটি হেলথ ফোরাম")তে ইহার উপকারিতা আর সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ হাইপনোসিস সোসাইটি আর ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল হাইপনোসিস (ISCEH)র শাখাসমূহ সচেতনতা বাড়ানর চেষ্টা করতেছে।

বাংলাদেশ আর ভারতর উল্লেখযোগ্য চিকিৎসক

  • ডাঃ এ কে এম ফারুক (ঢাকা, বাংলাদেশ): মনোচিকিৎসক, বাংলাদেশত ক্লিনিক্যাল হাইপনোসিস চর্চার পথিকৃৎদের মধ্যে একজন।
  • ডাঃ মোহিত কামাল (সিলেট, বাংলাদেশ): সিলেটি অঞ্চলত মানসিক স্বাস্থ্য আর হাইপনোথেরাপির প্রচারে актив।
  • ডাঃ সুনীল দে (কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত): ক্লিনিক্যাল হাইপনোসিসর উপর বহু বই লিখেছেন আর প্রশিক্ষণ দেন।
  • ডাঃ রীতা বরঠাকুর (গুয়াহাটি, আসাম, ভারত): উত্তর-পূর্ব ভারতত হাইপনোথেরাপি আর মনোবিজ্ঞানর একজন পরিচিত নাম।
  • প্রফেসর ডাঃ এম এম জিয়া উদ্দিন (ঢাকা, বাংলাদেশ): বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়র সাবেক শিক্ষক, যিনি ব্যথা ব্যবস্থাপনায় হাইপনোসিসর ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করেন।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

Template:Reflist